1. [email protected] : editor : Meraj Gazi
  2. [email protected] : admin :
  3. [email protected] : zeus :
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজবাড়ীতে বড় পর্দায় দেখানো হবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্নাঢ্য আয়োজনে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী দুল্লা গ্রেফতার গ্লোবাল টেলিভিশন ভবনে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানব বন্ধন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদরে ১০ কৃষক পেলো পাওয়ার টিলার চালিত সিডার সদর উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবাড়ী ইসকন মন্দিরের প্রবেশ পথ খুলে দেওয়ার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে আহতদের পাশে সংগীত শিল্পী ফারদিন পাংশায় স্বপরিবারে হত্যার উদ্যেশ্যে গভীর রতে বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ

রাজবাড়ী-২ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আ’লীগ-বিএনপি’র; কোন্দল দু-দলেই

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৭৯২ পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী টুডে: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১০ রাজবাড়ী-২ নং আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিভিন্ন কর্মকান্ড নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে পক্ষে নিতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এ আসনটিতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদন্দিতা হবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে আওয়ামীলীগ আসনটি ধরে রাখতে চাইছে, আর বিএনপি আসনটি পূণরুদ্ধারের চেষ্ঠা করছে।

আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্য কারো কোন মত প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে না । তবে বিএনপির গ্রুপিং অনেকটা প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির একটি গ্রুপিং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এম,পি ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি নাসিরুল হক সাবু। এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ।

পাংশা-কালুখালী-ও বালিয়াকান্দি এই তিনটি উপজেলা নিয়ে রাজবাড়ী-২ আসন গঠিত। আসনটিতে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক, বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সলিসিউটর মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে চান। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা দীর্ঘদিন যাবৎ জনগণের সাথে মিশে কাজ করে আসছেন।

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ১০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ও কালুখালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে রাজবাড়ী-২ সংসদীয় আসন। বর্তমানে আসনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। আগামী নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া দলটি। অন্যদিকে এ আসনে পুনরায় উদ্ধার করার জন্য মরিয়া বিএনপি। দুই দলের ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করার আগে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মননোয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি মোঃ বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, পাংশা,বালিয়াকিন্দ ও কালুখালি এই ৩টি উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ২। আমরা মূলত গত নির্বাচনের পর দিন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয় এবং তখন থেকেই আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাদের ৩ উপজেলায় আওয়ামী লীগ পূর্ণসমর্থন এবং ক্যৈবদ্ধ ভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে এবং এক সাথে কাজ করে যাচ্ছি আমরা এখানে মাননোয়ী প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের সুযোগ করে দিয়েছেন। এবং তার নির্দেশে যে উন্নয়ন কাজ চলছে তা অবৈতপূর্ণ। এটা সকল সময়ের থেকে এবারের উন্নযন মূলক কর্মকান্ড বেশি আমরা গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটি এলাকায় রাস্তা করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। মানুষয়ের কর্মসংস্থান এবং মানুষ শান্তিতে আছে মানুষ খেয়ে পড়ে ভালো ভাবে দিন যাপন করছে। শান্তিতে আছে। মানুষ অশান্তি চায় না কাজেই অন্যরকম কোন কিছু চিন্তা করার কিমবা অন্য কোন দলে ভোট দেবার ব্যপারে জনগণ আস্থাশিল বিশেষ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপরে খুবই আস্থাশিল। অন্য কোন দল এখানে প্রকিত অর্থে কোন কিছু করে নাই। কোন উন্নয়ন মূলক কোন কর্মকান্ড কওে নাই। কোথাও এক কিঃ রাস্তা কওে নাই, কোথাও এক কিলোমিটার বিদ্যূৎ এর লাইন দেয় নাই। কোথাও কোন স্কুল কলেজ এমপিও ভুক্ত থেকে শুরু করে কোন বিলিং কওে নাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয় নাই। এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাকিট উপজেলায় দুটি করে শক্ষিাপ্রতিষ্ঠান একটা স্কুল একটা কলেজ আমাদের ৩উপজেলায় সরকারী করণ করেছেন। এবং আমাদের এলাকার মানুষের লেখাপড়ার যে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটার জন্য মানুষ শেখ হাসিনার উপড়ে আস্থাশিল। এবং আমারা শত ভাগ নিসচিত যে আমরা এই নির্বাচনী এলাকায় আগামী নির্বাচীনে বিজয় অর্জন করবো। আমি মনে করি যে আমি এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি যে ভাবে দল গুছিয়েছি প্রথম থেকেই দলের নেতবৃন্দ আমার সাথে আছে এবং সাধারণ মানুষ দলের কর্মীরা আমার সাথে একতা বদ্ধ। আমরা যে কথা দিয়েছি তার চেয়ে বেসি কাজ করেছি। কাজেই এলাকার আমার উপড়ে আস্থাশিল। জননেত্রী সাথে সাথে আমাকেও তারা শেখ হাসিনার একজন সেন্হভাজন মনে করে। সেই হিসাবে আমি মনে করি নমিনেশনের ব্যবপারে নেত্রীর উপড়ে আমার আস্থা আছে আমার বিশ্বাস আছে। এবং নেত্রীর আমার উপর আস্থাশিল আমার উপড়ে বিশ্বাস রাখে।
তিনি আরো বলেন, এ আসেন আমি ৩বার নৌকা প্রতিকে নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। আশা করি আগামী ১০ম জাতীয় নির্বাচনেও জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই মননোয়ন দিবেন। এবং আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী ৩টি উপজেলায় বর্তমান সরকারের আমলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এবং এ অঞ্চলের মানুষ তা ভোগ করছে। অধিক আংশ এলাকায় বিদ্যুৎ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কার্লভাট বিভিন্ন ধরেনর উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি। তাছাড়ও হতদরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তাই জনগণ আওয়ামী লীগকেই আবারও ক্ষমতায় দেখতে চায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম। তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করা, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনসাধারণের সামনে তুলে ধরাসহ তৃণমূলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদারকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন।
১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ম বারের মত এমপি নির্বাচিত হন।২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয় পুনরায় ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসিরুল হক সাবুকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম। সর্বশেষ ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম।

পাশা পাশি এমপি জিল্লুল হাকিমের ছেলে ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষে দিক নির্দেশনা প্রদান করে নেতাকর্মীদের বেস উজ্জীবিত করেছেন। যার ফলে যে কোন সময়ের চেয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
পাংশা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম এর সাথে রাজনীতি করি এবং করে যাব যতদিন বেচে আছি। অনেকেই রাতের আধারে পোষ্টার ফেটুন দিয়ে নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা শুধু ফেসবুক আর পোষ্টার দিয়ে এলাকার মানুষকে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করছে। যদি কেউ রাজনীতি করতে চায় তাহলে মাঠে এসে তাদের প্রকাশ্যে রাজনীতি করার আহবান জানান তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।
ডা. এম ইকবাল আর্সলান: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চিকিৎসকদের সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন তিনি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত ডা. এ কে এম আসজাদও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এলাকায় স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর বাবা চার একর জমি দিয়ে গেছেন। তিনি নিজেও নিয়মিত এলাকায় এসে মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করেন।

অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সনাল বলেন, রাজবাড়ী -২ আসনের তিনটি উপজেলার আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রান নেতাকর্মীরা অস্বস্তি ও হতাশার মধ্যে রয়েছে। অনেকে প্রশাসনিক হয়রানির স্বীকার ও হচ্ছেন এ গুলো থেকে জনগনের পরিত্রান পাওয়া জরুরী বলে এলাকাবাসী মনে করেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পেশাজীবি সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।তার বাবা এ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ডাঃ এ,কে,এম আসজাদ ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেতা ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ডাঃ ইকবাল আর্সনাল বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী চাইলে আমি এ আসনের এমপি প্রার্থী হবো।

নুরে আলম ছিদ্দিকী: কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম ছিদ্দিকী হক বলেন, দলের প্রতিটি স্তরে বর্তমান সংসদ সদস্য গ্রুপিং সৃষ্টি করে রেখেছেন, এ আসনটি ধরে রাখতে হলে প্রার্থী বদল হওয়া অতি জরুরী ব্যপার হয়ে দেখা দিয়েছে নতুবা এ আসনটি ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে অনেকে মনে করছেন। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম ও তার সমর্থকদের বাইরে নেতাকর্মীরা আজ অবহেলিত, নেতা কর্মীরা নির্যাতিত, প্রতিহিংসার স্বীকার। এ ঘৃন্য অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রার্থী পরিবর্তন খুবই জরুরী। তিনিও দাবী করেন এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা সম্ভব হবে। এদিকে সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম এর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা কর্মীদের নানা অভিযোগ, ক্ষোভ, ও তার বলয়েরনেতা কর্মীদের বাইরে যারা অবস্থান করছেন তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে জেলা আ’লীগ সভাপতি ও বর্তমান এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিম বলেন,আমার নির্বচনী এলাকার কোন নেতাকর্মীর আমার বিরুদ্ধে কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করিনা, অতীতের তুলোনায় পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলা আগের তুলোনায় যতেষ্ঠ শান্ত এবং এসব উপজেলায় বর্তমানে বেশ শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আমার সাধ্যমতো সকলকে সমান ভাবে উপকার করার চেষ্টা করেছি ,আমি আগামী সংসদ নির্বচনে দলীয় প্রার্থী হবো বলে মনে করি।নেত্রী আমাকে যেমনভাবে জেলা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন ঠিক তেমনিই ভাবে আমাকে পূণরায় দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেবেন এবং আমি আমার নির্বাচনি এলাকার জনগনের ভোটে আবার এমপি নির্বাচিত হবো বলে মনে করি।
মেহেদী হাসান: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সলিসিটর মেহেদী হাসান অনেকদিন ধরেই ২আসনের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত সলিসিউটর মুহাম্মদ মেহেদী হাসান দেশে থাকার সময় বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। লন্ডনে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ব্যারিস্টার কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সদস্য। লন্ডনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপের পর তিনি দেশে নিজের এলাকায় কাজ করছেন। মাঝেমধ্যেই দেশে আসেন এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেন। সামাজিক উন্নয়ন্ মূলক কর্মকান্ড করে ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। মনোনয়ন পেতে জোর লবিং, ব্যানার,পোষ্টার ফেস্টুন দিয়ে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি আমার কোনপ্রচারনা চালাচ্ছি না আমি নৌকার প্রচারনা চালাচ্ছি। মননোয়ন চাইবো নেত্রী মননোয়ন দিলে নির্বাচন করবো। আর আমাকে যদি মনোনয়ন নাও দেন, নেতী যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে আমি কাজ করব।
বিএনপি
এ আসনের বিএনপির মনোনিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোঃ নাছিল হক সাবু ছাড়া ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন-অর- রশিদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এ্যাডঃ আঃ রাজ্জাক খান, মনোনয়ন চাইবেন।
বিএনপিঃ রাজবাড়ী-২ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের মধ্যে এ বিরোধ। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা তৎপর। এ আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাসিরুল হক সাবু ছাড়াও আছেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ, কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খান।
নাছিরুল হক: সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু বলেন, জনননের জন্য রাজনীতি করি,এ আসনের জনগণ আমার নেক আপন। তিনি এর আগে এ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। এ বারও দলীয় সভানেত্রী তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে আছি। রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এর আগে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের সাধারণ মানুষ, ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ভালোবাসে এবং তার পক্ষেই কাজ করবে বলে দাবি সাবেক এমপি সাবুর। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী খালেদা জিয়া তাঁকেই মনোনয়ন দেবেন এমনটাই আশা করছেন তিনি। মনোনয়ন পেলে একাট্টা হয়ে মাঠে নামবে দলীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাধারন হারুন: অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর-রশিদ এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগসহ লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। লবিংয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন তিনি। সম্পাদক হারুন-অর- রশিদ বলেন, সুষ্ঠ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করবে এবং তিনি রাজবাড়ী -২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি প্রার্থী হবেন, নতুবা দল যাকে প্রার্থী দেবেন তিনি তা মেনে নিয়ে তার সাথে কাজ করবেন।
আব্দুর রাজ্জাক খান: বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়ন আব্দুর রাজ্জাক খান ৩টি উপজেলায় গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজবাড়ী কিং জুট মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজবাড়ী জুট মিলস্ লিমিটেডের পরিচালক, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কর আইনজীবী সমিতি ও লায়ন ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্যসহ অসংখ্য সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে ২০১৩ সালে জেল খেটেছেন। শিল্পোদ্যোগ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ড করছেন দীর্ঘদিন ধরে কালুখালী উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। কালুখালি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করছেন রাজ্জাক খান। তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

জাতীয় পার্টির
জাতীয় পাটির বেশ কয়েকজন নেতাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সভা-সমাবেশ করছেন। জাতীয় পার্টি থেকে মননোয়ন চাইবেন, জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির আ-জীবন সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম নুরুল ইসলাম ও জেলা জাতীয় পাটির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা সভাপতি মো. আবুল হোসেন মিয়া ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোয়ার ই খোদা চৌধুরী মন্টি।
এবিএম নুরুল ইসলাম: তিনি বলেন আমি জাতীয় পার্টি করি আমি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি জাতীয় পার্টি করে যাবো। দলের নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে আমি সব সময় তাদরে পাশে থাকার চেষ্ট করেছি। তাছাড়ও পাংশা,কালুখালি ও বালিয়াকন্দি সহ ৩টি উপজেলার মানুষের জন্য আমি অসংখ্য উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসনে আমাকে মনোনয়ন প্রদান করলে এলাকার নেতাকর্মীরা আমার পক্ষেই কাজ করবে এবং ২আসনের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

আবুল হোসেন মিয়া: অন্যদিকে তার মধ্যে জেলা জাতীয় পাটির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা সভাপতি মো. আবুল হোসেন মিয়া এগিয়ে রয়েছেন। তার বিকল্প কাউকে দেখছেন না পার্টির কর্মীরা। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়তই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টিকে চাঙ্গা করেই রেখেছেন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন উৎসব ও জাতীয় দিবসে তিনি পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণ বানিয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, পার্টির চেয়ারম্যান ২০০৮ সালে আমাকে রাজবাড়ী-২ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এবারও আশা করছি, পার্টি আমাকেই মনোনয়ন দেবে। জাতীয় পার্টি থেকে তিনি মনোনয়ন পেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গলের বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ,ওয়ার্কাস পাটি ,জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল জাসদ ও অন্যান্য দল জোট মহাজোটের সাথে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই জাতীয় আরো খবর
June 2022
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© All rights reserved © 2013 Todaybangla24
Theme Customized BY LatestNews